• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
⚡শিরোনামঃ
দুর্নীতির বরপুত্র এলজিইডির পিডি খন্দকার আসাদুজ্জামান  এলডিপিপি প্রকল্পে প্রশংসনীয় সাফল্য এনেছেন ড. মোস্তফা কামাল  কথিত সাংবাদিক নয়, সিনিয়র সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করুন: এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডিতে ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুর্নীতিবাজ পিডিদের অপসারণের দাবি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার -সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদলে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন পিডি আবদুর রহিম মতামত : ইরানকে রাশিয়া অস্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু দিচ্ছে তারেক রহমান দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করেছেন: মির্জা ফখরুল জার্মানিতে ‘দেশবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত তারেক রহমান হাজারীবাগে এফবিসিসিআই সদস্য লেদার ব্যবসায়ী ওমর ফারুক সুমনের অফিসে দুর্বৃত্তের হামলা

চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদলে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন পিডি আবদুর রহিম

অপরাধ সংবাদ২৪ ডেস্ক:
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

Share

রানা চৌধুরী : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা আর ধলেশ্বরীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরাঞ্চলগুলোতে একসময় শুধুই ছিল দারিদ্র্য আর নদীভাঙনের হাহাকার। কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকারের একটি বিশেষ দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে সেই চিরচেনা দৃশ্যপট। মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত দুর্গম চরগুলোতে এখন বইছে অর্থনৈতিক মুক্তির হাওয়া। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত ‘নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ চরের প্রান্তিক মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন।

এপ্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত দক্ষ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্ব ড. মো আবদুর রহিম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রকল্পে ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। ড. আবদুর রহিম-এর দক্ষ তদারকিতে এই সমন্বিত প্রকল্প চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ হাজার ৩৬৭ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে চলমান রয়েছে। ঢাকা বিভাগের ৭টি জেলার ৩১টি উপজেলার ১২০টি ইউনিয়নের মোট ৬৩৩টি চরের ৬৫ হাজার ২৯০টি দরিদ্র পরিবারকে এই প্রকল্পের সরাসরি সুফলভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দুর্গম চরাঞ্চলে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, চরের মানুষের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত জাতের বকনা বাছুর, ছাগল, ভেড়া এবং বিপুল সংখ্যক হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু পশুপাখি বিতরণই নয়, চরের প্রতিকূল আবহাওয়ায় এগুলোকে টিকিয়ে রাখতে দেওয়া হচ্ছে সুষম প্রাণিখাদ্য ও উন্নত শেড বা ঘর নির্মাণের সহায়তা। এছাড়া, গবাদিপশুর রোগবালাই প্রতিরোধে চরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা।
যোগাযোগের দুর্গমতার কথা চিন্তা করে প্রতিটি চরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় ‘লাইভস্টক ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর (LFF)’ বা মাঠ সহায়তাকারী। আধুনিক প্রশিক্ষণে দক্ষ এই মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক চরের খামারিদের পাশে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এই প্রকল্পের অন্যতম সফল দিক হলো গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন। চরের শতশত নারী এখন হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে নিজেদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। ফরিদপুরের এক চরের সুফলভোগী মরিয়ম বেগম জানান, “প্রকল্প থেকে পাওয়া উন্নত জাতের ছাগল এবং হাঁস পালন করে এখন আমার প্রতি মাসে ভালো আয় হচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে সংসারেও সাহায্য করতে পারছি। চরের নারীরা এখন আর পরনির্ভরশীল নয়। চরাঞ্চলে দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন ১৫-২০% বৃদ্ধির ফলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। বিশেষ করে চরের শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের অপুষ্টি দূরীকরণে এটি সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বাণিজ্যিক উৎপাদন চাঙ্গা করছে গ্রামীণ বাজার অর্থনীতিকে। শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে চরেই তৈরি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান।

সুফলভোগীদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশুপালনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সনাতন কৃষি থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট খামার ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটছে, যা টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।

অর্থনীতিবিদ ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প কেবল চরের মানুষের ভাগ্যই বদলাচ্ছে না, বরং দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি এই মহতী উদ্যোগ যদি টেকসইভাবে ধরে রাখা যায়, তবে দেশের অবহেলিত নদীবিধৌত চরাঞ্চলগুলো আগামী দিনে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম প্রধান উৎপাদন হাবে পরিণত হবে, যা সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আরও বেগবান করবে।


এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ