
রানা চৌধুরী
দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে অর্গানিক মাংস রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ ‘স্মার্ট কার্ড’ চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
গতকাল বিকেলে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। আমরা টেকসই পশুপালনের ওপর জোর দিচ্ছি। বিশেষ করে কম খরচে উন্নত মানের ঘাস ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন ঈদুল আজহা প্রসঙ্গে খামারিদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, উৎসবের আগে খামারিরা যাতে পশুর ন্যায্য মূল্য পান এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পান, সে বিষয়ে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। শস্য চাষিদের মতো প্রকৃত পশুপালকদেরও সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজের আওতায় এনে দ্রুত অফিশিয়াল ‘কৃষক কার্ড’ বা খামারি কার্ড দেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বিমুখী বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করা হচ্ছে। এ খাতের যেকোনো বিদ্যমান আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সুফিয়ান, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবদুর রহিম, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের পিডি মোস্তফা কামাল এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এছাড়াও সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।